নিসর্গ তে এটি আমার প্রথম লেখা। চেষ্টা করব চালিয়ে যেতে, দেখি কতদূর যেতে পারি
বাংলাদেশে বন কতটুকু? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একাধিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ বন বিভাগ এবং এবং অন্যান্য অর্গানাইজেশনের (যেমন FAO) পরিসংখ্যানের ভেতর পার্থক্য যথেষ্ট, কারণ প্রত্যেকেই নিজের মত বন এর ডেফিনিশন তৈরি করেছে। আরেকটি সমস্যার কারন হচ্ছে 'বন' এবং 'বনভূমি'র মধ্যে পার্থক্য। সরকারী হিসাবে বাংলাদেশে 'বনভূমি'র পরিমান ২.৫২ মিলিয়ন হেক্টর- যা দেশের মোট আয়তনের ১৭.৪%। কিন্তু সব 'ভূমি' জুড়েই কি গাছপালা আছে? আমাদের বনাঞ্চলের অনেক জায়গাই কিন্তু বৃক্ষশূন্য। তাহলে কি দাঁড়াল? বৃক্ষ আচ্ছাদিত বনের পরিমান 'বনভূমি'র চেয়ে কম অবশ্যই। শতকরা হিসাবে ১৭.৪% 'বনভূমি'র বিপরীতে বৃক্ষ আচ্ছাদিত 'বন'এর পরিমান ৮ থেকে ১০%।
আমাদের দেশে মোট ৪ ধরনের বন আছে।
১) শাল বন - প্রধাণতঃ মধ্যাঞ্চল জুড়ে ঢাকা, টাংগাইল, ময়মনসিংহ জেলায় বিস্তৃত। কিছু বছর আগেও রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর ও কুমিল্লাতেও এই বনের বিস্তার ছিল, এখন আর নেই। কেন নেই সেটা অন্য ইতিহাস।
২) পাহাড়ী বন- নামেই তার পরিচয়। সিলেট, মৌলভিবাজার, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়গুলোতে এই বনের বিস্তৃতি।
৩) ম্যানগ্রোভ - এ বন জন্মায় নোনা মাটিতে। আমাদের সুন্দরবন এ জাতীয় বনের আওতাভূক্ত।
৪) গ্রামীন বন- সারা বাংলাদেশ জুড়ে বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় যে গাছপালা, তা সব মিলিয়েই গ্রামীন বন।
(চলবে)
[নোট: উপরের ছবিটি নিসর্গ সাপোর্ট প্রজেক্টের সাইট থেকে নেয়া হয়েছে। নিসর্গ সাপোর্ট প্রজেক্ট বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রজেক্ট। এর সাথে নিসর্গ (nishorga.com বা nature.com.bd)-এর কোন সম্পর্ক নেই।]
ছবির সূত্র: http://www.nishorgo.org/photo_gallery_page/page05_pilot_nishorgo_sites1....
যত মন্তব্য
বাংলাদেশের 'বন' ও 'বনভূমি'র পরিমান নিয়ে খোদ সরকারি মহলেও যে কিরকম বিভ্রান্তি তা আজকের একটি নিউজের (লিংক দেখুন) প্রথম কয়েকটি লাইন পড়লেও বোঝা যায়।
http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=50820&hb=5
বিডিনিউজ24.com এর খবরটা এখানে রেফারেন্স হিসেবে তুলে রাখছি।
বন উজার হচ্ছে কারণ বন বিভাগে জনবল কম: প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, মে ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশের বনজ সম্পদ ক্রমেই উজার হওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার বন বিভাগের যথেষ্ট জনবল না থাকার যুক্তি দিলেন।
মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরুর আগের দিন শনিবার এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বললেন, বন বিভাগের যে জনবল কাঠামো রয়েছে, তার মধ্যেও এক হাজার ২০০ জন কর্মীর পদ এখন শুন্য।
রোববার থেকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাণিজ্য মেলা মাঠে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষরোপণ আন্দোলন ও বৃক্ষমেলা, ২০০৯।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) এ বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
তথ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট ভূ-খণ্ডের ২৫ শতাংশ বন থাকার দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ বনভূমি। তাই পরিবেশ রক্ষায় ও জনগণের বনজ দ্রব্যের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সরকারি বনভূমি, প্রান্তিক জমি ও বসতবাড়ির আশে-পাশে বৃক্ষরোপন ও বনায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।"
বাংলাদেশের ক্রমেই নিঃশেষ হয়ে আসা বনভূমির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে খুব নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। সা�প্রতিককালে বিভিন্ন মহলের হিসেবে বাংলাদেশে ন্যুনতম ৬-৭ শতাংশ প্রকৃত বনভূমি থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বৃক্ষরোপণ আন্দোলন ও সামাজিক বনায়নকে উৎসাহিত করতে সরকার এ বছর ১৬টি শ্রেণীতে জাতীয় পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রথম পুরস্কার ২০ হাজার, দ্বিতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা এবং একটি করে সনদ দেওয়া হবে। রোববার প্রধানমন্ত্রী ১৬টি শ্রেণীর প্রথম স্থানপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ছয়টি বিভাগে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে অর্জিত সর্বোচ্চ উপকারভোগী ছয়জন ব্যক্তির হাতে তাদের লাভের অর্থের চেকও তুলে দেবেন বলে তিনি জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর সরকার দেশে ১২ লাখ বৃক্ষের চারা রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমি এবং ৪০০ মাইল সড়কে এসব চারা রোপণ করা হবে। বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির জন্য এ বছর প্রায় ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে তিনি জানান।
বৃক্ষরোপণ করা হলেও পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছ টিকে না থাকা এবং বনজ সম্পদ উজাড় হওয়া ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে- এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বন বিভাগের যথেষ্ট জনবল নেই। যে জনবল কাঠামো রয়েছে, তার মধ্যেই এক হাজার ২০০ জন কর্মীর পদ শুন্য রয়েছে। তবে এসব পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে গাছ চুরি রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
এই 'কার্যকর ব্যবস্থাটি' কী তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
প্রায়শই বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের বনদস্যুরা অনেক সময় বনরক্ষীদের চেয়ে আধুনিকতর অস্ত্রে সজ্জিত। দুর্নীতি বন ধ্বংসের আরেকটি বড় কারণ বলে মনে করা হয়।
বৃক্ষমেলায় অংশ নেবে ১২৫টি প্রতিষ্ঠান
সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বন সংরক্ষক আব্দুল মোতালেব জানান, এবারের বৃক্ষমেলায় দেশের ১২৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় হাজার করে দিতে হয়েছে স্টল বরাদ্দ পেতে।
আব্দুল মোতালেব জানান, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই মেলার জন্য বন বিভাগের বরাদ্দ রয়েছে ৩১ লাখ টাকা। আর অন্য জেলা পর্যায়ে মেলা আয়োজনের জন্য এ বছর মোট ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মিহির কান্তি মজুমদার ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) ইফতেখার হোসেনও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তরা
প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ী মাদ্রাসা শ্রেণীতে বরিশালের উজিরপুর ওমেদা খাতুন মেমোরিয়াল শিশু নিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহীনূর বেগম, উচ্চ বিদ্যালয় ও সিনিয়র মাদ্রাসা শ্রেণীতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের জহুরুলহাট হাজী এলাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম, বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ শ্রেণীতে ঝিনাইদহের খড়িখালী মায়াময় মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণীতে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
মসজিদ, মন্দির ও গীর্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শ্রেণীতে কুষ্টিয়া সদরের জগন্নাথপুর জামে মসজিদের গোলাম কিবরিয়া, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ শ্রেণীতে গাইবান্ধার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন শ্রেণীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সেক্টর-করপোরেশন বা প্রতিষ্ঠান শ্রেণীতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূজপুর কৈয়াছড়া ডালু চা বাগানের ব্যবস্থাপক প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শ্রেণীতে সাতক্ষীরা রূপসী বাংলা'র সভাপতি এসএম নূরুজ্জামান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে বরিশাল উজিরপুরের নারায়ণপুর গ্রামের মেহের নিগার সাথী, ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারী শ্রেণীতে খুলনা ফুলতলার ফাতেমা নার্সারীর নাছিমা বেগম ও বাড়ির ছাদে বাগান করার সাফল্যের জন্য সাতক্ষীরা সদরের মমতাজ বেগম প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
সরকারি পর্যায়ে বন বিভাগের বাগান সৃষ্টিতে কুষ্টিয়ার সামাজিক বন বিভাগ, বনায়নে বিশেষ অবদান রাখায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে নাটোরের তেবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, শ্রেষ্ঠ নারিকেল বাগান সৃষ্টিতে সাতক্ষীরা সদরের বিশ্বরূপা ঘোষাল এবং কবরস্থান ও শ্মশানঘাটে বাগান সৃষ্টিতে ঝিনাইদহের গোয়ালপাড়ার আতাউল হক প্রথম পুরস্কার পাচ্ছেন।
এছাড়া সামাজিক বনায়নের জন্য ছয়টি বিভাগে সর্বোচ্চ উপকারভোগী ছয়জন হলেন- সড়ক বাগানের ক্ষেত্রে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার আতিক মিয়া (চার লাখ ৩০ হাজার ৮৪২ টাকা), উডলট বাগানের ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁর ধামইরহাটের আবুল হোসেন (তিন লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৮ টাকা), কৃষি বন বাগানের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা রাজেশপুরের মকবুল আহম্মদ (তিন লাখ ২০ হাজার ১১৯ টাকা), বেড়ীবাঁধ বাগানের ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগের ভোলার মনপুরার নূরুল ইসলাম (১০ হাজার ৮৯৪ টাকা), কৃষি বন বাগানের ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগের গাজীপুরের শ্রীপুরের জুবেদা খাতুন (দুই লাখ ৫৮ হাজার ৭৬১ টাকা) এবং স্ট্রীপ বাগানের ক্ষেত্রে খুলনা বিভাগের মাগুরার নিজ-নান্দুয়ালী গ্রামের নাসরিন আক্তার (৩৮ হাজার ২৮৮ টাকা)।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমকে/এমডি/এসকে/২০১১ঘ.