Share |

বাংলাদেশের বন ২

বনভূমি
এনায়েতুর রহীম / nature.com.bd

আগের পর্বে লিখেছিলাম বাংলাদেশের ৪ প্রকারের বনের কথা। আজকে বলছি এই চার প্রকারের এক 'শালবন' নিয়ে। এ বনের নামকরণ এর প্রধান বৃক্ষ (প্রায় ৯৫ ভাগ) শাল (Shorea robusta) এর কারণে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁসে নেপাল আর ভারতের বেশ কিছু অঞ্চল জুড়ে রয়েছে এ বন।

আমাদের দেশে এ বনের বিস্তৃতি উত্তরে রাজশাহী-রংপুর-দিনাজপুর থেকে ময়মনসিংহ-টাংগাইল-গাজীপুর হয়ে কোনাকুনি কুমিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে তার অধিকাংশই। রয়ে গেছে গাজীপুর-টাংগাইলের অল্প কিছু অংশ জুড়ে। যে বনে একসময় অবাধে ঘোরাঘুরি করত হাতি, চিতা আর ভাল্লুক, সেই বনে আজ ইতস্তত ঘুরে বেড়ানো বানর ছাড়া আর কিছু কি আছে? আছে, আরেক নতুন প্রজাতির পশু আছে। ভেবে বলুন কি?

বাংলাদেশের বনগুলোর মধ্যে শালবনই ধ্বংস হয়েছে বেশি। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বনের চারপাশে গড়ে উঠা মানুষের বসতি। আশেপাশের মানুষের এ বনের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়াও কিছু প্রভাবশালীর লোভ-লালসাও কাজ করেছে (এবং করছে) এর পেছনে। বন তো দূরের কথা, বনের আশেপাশে স্থাপনাও যেখানে আইনত নিষিদ্ধ, সেখানে এক গাজীপুর-ময়মনসিংহের শালবনই পরিনত হয়েছে শিল্পাঞ্চল আর প্রভাবশালীদের হেরেমখানায়।

শালবন ব্যবস্থাপনায় বন বিভাগের নিজেদেরও অদক্ষতা-অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ১৯৮৯ সালে এডিবি'র অর্থায়নে থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ অব্যবস্থাপনার শুরু। সামাজিক বনায়নের নামে বনের প্রধান বৃক্ষ শাল কেটে অনেক জায়গায় লাগানো হয়েছে বিদেশি প্রজাতির আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস আর শিশু।

সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে এবং শালবনের কিছু কিছু জায়গার জন্য সামাজিক বনায়ন অবশ্যই উপযুক্ত। কিন্তু ব্যাপক হারে প্রাকৃতিক শাল নিধন করে সাময়িক লাভের কথা বিবেচনা করে সামাজিক বনায়ন দীর্ঘমেয়াদে শালবনের জন্য ক্ষতিরই কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। শালবন ইকোসিস্টেমের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আরেক কারন হচ্ছে কলা চাষ। বিশেষ করে মধুপুর অঞ্চলের কলা চাষ কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যাবে না রাসায়নিক সার, হরমোন আর কীটনাশকের অতি ব্যবহার কিভাবে মাটির গুনাগুন ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শালবনের পরিবেশগত গুরুত্ব ছাড়াও এর অর্থনৈতিক, সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। একমাত্র সমন্বিত টেকসই ব্যবস্থাপনাই পারে শেষ পর্যন্ত বনটি টিকিয়ে রাখতে। এর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ এখনই অপরিহার্য:

১) প্রাকৃতিক শাল কেটে কোনোভাবেই কৃত্রিম বন সৃস্টি করা যাবে না। অনেকেই কোনো কোনো জায়গায় কম উৎপাদনশীলতার কথা বলে এরূপ বন সৃজনের কথা বলেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে অধিক উৎপাদনই বনের একমাত্র কাজ নয়।

২) বেদখল হয়ে যাওয়া ব্যাপক জমি উদ্ধার করে তাতে সামাজিক বনায়ন করতে হবে। তবে, বিদেশি প্রজাতি পরিহার করে দ্রুত বর্ধনশীল না হলেও দেশি প্রজাতি লাগাতে হবে।

৩) বনের আশেপাশে থাকা সব স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।

৪) উওরাঞ্চলের বনভূমিতে নতুন করে শাল সৃজন করে পূর্বাবস্থায় (restoration) ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।

[এই পোস্টটি যাঁরা পড়ছেন, বিশেষ করে যাদের বাড়ি শালবনের আশেপাশে, তাদেরকে মন্তব্যে নিজের মত করে অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি]

rana_forএটyahoo.com


যত মন্তব্য

onek sondor ekta article ..thnx onek

হিমু, আপনি বাংলা লিখতে পারেন না? বাংলায় মন্তব্য করলে খুবই ভালো হবে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন :)