নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা কমছে
সোমবার, মে ২৫, ২০০৯ - ০০:০৬
নিঝুম দ্বীপের হরিণ দিন দিন কমছেই। দুই বছর আগেও হরিণের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। হরিণের দল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসত। এদের হাত থেকে ফসল রক্ষায় মানুষ শক্ত করে বেড়া দিত। কিন্তু বর্তমানে সেই হরিণের বড় বড় দল আর লোকালয়ে আসে না। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে গোটা বনের মোট ৮-১০টি জায়গায় হরিণ আছে। সবচেয়ে বেশি হরিণ দেখা গেছে চৌধুরী খালের এলাকা, শতপুল, শাপলাডুবি, ডুবুরি খাল, ডাক্তার খাল, সোয়াখালি ও মাঝের চরের এলাকাতে। অন্য জায়গাগুলোতে ছোট ছোট কয়েকটি হরিণের দল পাওয়া গেছে। চলছে হরিণের খাদ্যসংকট।

কেওড়া, বাইন, গেওয়া, কাঁকড়াসহ যেসব গাছের পাতা হরিণ খায় সে গাছগুলো বেশ উঁচু হয়ে গেছে। গাছের পাতা ঝরে না পড়লে তারা খাবার পায় না। নিঝুম দ্বীপে যে ২৪টি খাল রয়েছে তার সবগুলো খালের পানিই লবণাক্ত। ফলে মিঠা পানির অভাব হরিণের নিত্যদিনের। এ বছরই হরিণের মিঠা পানির অভাব পূরণে চারটি পুকুর খোঁড়া হলেও মহিষের অত্যাচার আর পুকুরের ঢাল অধিক খাড়া হবার কারণে হরিণগুলো সেখানে নামতে পারে না।
বর্ষা মৌসুমে হরিণ বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে শত শত হরিণ ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়। আবার এ মৌসুমে বনে মশার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় হরিণের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ইদানীংকালে নিঝুম দ্বীপে কুকুর আর শিয়ালের সংখ্যা অধিকহারে বেড়ে গেছে। ৪-৫টি কুকুর মিলে একটি রোগাক্রান্ত হরিণ ধরে সহজেই খাচ্ছে। বিকালবেলা হরিণগুলো ডুবুরি খাল ও মাঝের চরের ঘাসের মাঠে ঘাস খেতে নামে। কিন্তু এ এলাকাতে শত শত মহিষের পাল ঘাস খাওয়ার ফলে হরিণের খাবার সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ ব্যাপারে নিঝুম দ্বীপের বিট অফিসারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নিঝুম দ্বীপে হরিণ ও বন বাঁচাতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমাদের গোটা বন দেখাশুনার জন্য জনবল আছে মাত্র ৮ জন। আগামীতে সরকারের সহযোগিতা পেলে এসব সংকট মোকাবিলায় আমরা সচেষ্ট হব।
নিঝুম দ্বীপে সরকার ১৯৭৩-২০০০ সাল পর্যন্ত ১০,১৬০ হেক্টর জমিতে বনায়ন করলেও ৬,১৭২ হেক্টর জমিতে বনায়ন বিভিন্ন কারণে ব্যর্থ হয়েছে। এখন বন আছে মাত্র ৩৯৩৬ হেক্টর জমিতে। ১৯৭৪-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এ বনে ৭টি মেয়ে ও ৭টি পুরুষ হরিণ ছাড়া হয়। মাত্র ১৪টি হরিণ থেকেই হরিণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় বিশ হাজার। ২০০১ সালের শুমারীতে হরিণের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০-১২ হাজারের মত। আর বর্তমানে এখানে ৪-৫ হাজারের বেশি হরিণ হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
ছবি: লেখকের তোলা।
লেখা ও ছবির সূত্র: ইত্তেফাক

মন্তব্য করুন