ঘাগরা শাকে বিষ আছে, গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০০৯ - ০৭:২৭
ঘাগরা শাক দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ শাক খায়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ঘাগরা শাক নিরাপদ খাদ্য নয়। কচি ঘাগরা ও এর বীজে বিষ আছে। পরিণত ঘাগরা খেলেও যকৃতের ক্ষতি হয়।
বিজ্ঞানীরা এই দাবি করেছেন গবেষণার ভিত্তিতে। জানা গেছে, ২০০৭ সালের নভেম্বরে সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ কিছু মানুষ অসুস্থ হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারাও যায়। এর কারণ অনুসন্ধানে ঘাগরা শাক নিয়ে গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগও এ গবেষণায় যুক্ত হয়। গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, ঘাগরা শাকে বিষ আছে। তাই তাঁরা এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী এমিলি গার্লি প্রথম আলোকে বলেন, কচি ঘাগরা শাকে ও বীজে কার্বোক্সিঅ্যাট্রাক্টিলোসাইড (Carboxyatractyloside) থাকে, যা বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তি কচি ঘাগরা বা এর বীজ খেয়েছে, তারা তীব্র বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের তিন ঘণ্টার মধ্যে মারা যাওয়ার ঘটনাও আছে।
গবেষকেরা বলেন, ২০০৭ সালের বন্যায় গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তখন এলাকার মানুষ প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ঘাগরাসহ অন্যান্য শাকসবজির ওপর অনেক নির্ভর করেছিল। ওই বছরের নভেম্বরে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত বেশ কয়েকজন ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কয়েকজন মারাও যায়। তাদের মৃত্যুর কারণ ঘাগরা শাক।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা সিলেটের ১১টি গ্রামের ৮১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের নিয়ে গবেষণা করেন। তারা সবাই ঘাগরা শাক খেয়েছিল। তাদের প্রত্যেকে বমি করে, ৬০ শতাংশ জ্বরে আক্রান্ত হয়, ৫৬ শতাংশের মানসিক বৈকল্য দেখা দেয়। তাদের মধ্যে ১৯ জন (২৪ শতাংশ) পরে মারা যায়। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছে।
গোয়াইনঘাটের সুলতান মোহাম্মদ খান বলেন, ‘এলাকায় কেউ ঘাগরা শাকের চাষ করে না। পতিত জমি, রাস্তার পাশে, নদীর পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে এই শাক জন্নায়। এই শাক বাজারে বিক্রিও হয়। এই শাক যে মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তা আমরা জানতে পারি ২০০৭ সালের ঘটনার পর।’
আইইডিসিআরের পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মানুষ ঘাগরা শাক তরকারি হিসেবে ও ভাজি করে খায়। ওষুধ হিসেবেও এর ব্যবহার আছে। কিন্তু ঘাগরার বিষক্রিয়ায় যকৃতের ক্ষতি হয়, এটা প্রায় কেউই জানে না। নিয়মিত ঘাগরা খেলে যকৃৎ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার একসঙ্গে বেশি খেলে যকৃৎ হঠাৎ করে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ঘাগরা শাক খাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে মানুষ মারা যেতে দেখেছি আমরা।’ তিনি জানান, ঘাগরার বিষক্রিয়ার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে আছে: যারা খায়, তাদের শতভাগই বমি করে। পেটে তীব্র ব্যথা ও জ্বর হয়। অনেকে চেতনা হারিয়ে ফেলে। মানুষকে জানানো দরকার যে ঘাগরা শাকে বিষ আছে। এই শাকের বিষক্রিয়ায় মানুষ মারা যেতে পারে।
শিশির মোড়ল
দৈনিক প্রথম আলো
২০০৯-৪-২

আপডেট http://www.eprothomalo.
আপডেট
http://www.eprothomalo.com/contents/2009/2009_05_13/content_zoom/2009_05_13_12_10_b.jpg
ব্যাপারটা ঠিক। অনেকটা সাপের
ব্যাপারটা ঠিক। অনেকটা সাপের বিষের মতো। সাপের বিষ দিয়েই তৈরী হচ্ছে অনেক মহামূল্যবান জীবনরক্ষাকারী ঔষধ। ঘাগরা শাকের বিষাক্ততা বড় হলে থাকেনা। কচি গাছ (চারা যাকে বলে) ও বীজে বিষ থাকে। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। ধন্যবাদ, রাসেল।
u got to be kidding
u got to be kidding me!!!
it's totally not cool.....
মন্তব্য করুন