| বাঁশখালী ইকোপার্ক |
|
|
| লিখেছেন আবুল কাসেম ভুঁইয়া | |
| Wednesday, 07 February 2007 | |
Daily Ittefaq February, 07, 2007: বাঁশখালী উপজেলার জলদী বনবিটের আওতাধীন রক্ষিত বনাঞ্চলের বামের ছড়া ও ডানের ছড়া এলাকা নিয়ে ২০০৪ সালের দিকে বন বিভাগ বাঁশখালী ইকোপার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। উঁচু নিচু টিলা। প্রকৃতির উদার হাতে গড়ে ওঠা বন। বিচিত্র ধরনের পশু পাখী। এরই মাঝে শিক্ষা, গবেষণা, ইকোট্যুরিজম ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে সৃষ্টি করা হয় এই ইকোপার্ক। চুনতি অভয়ারণ্যের এক হাজার হেক্টর জমি নিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্কের যাত্রা শুরু। আশপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পাহাড় ও বনাঞ্চল নিয়ে আসা হয় এর আওতায়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আলোকে ৭৭৬৪ হেক্টর বনভূমি নিয়ে চুনতি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। অভয়ারণ্য ঘোষণার মূল লক্ষ ছিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনাঞ্চল সুরক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়ন, বনায়ন, চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে এর তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। ![]() Bashkhali EcoPark- ittefaq.com ১৯৯৩ সালের দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, 'ইফাদ' এর আর্থিক সহায়তায় বামের ছড়ার উপর একটি বাঁধ নির্মাণ করে স্লুইচ গেটের মাধ্যমে জলদি, শীলকূপ ও চাম্বল এলাকায় কৃষিজমিতে পানি সেচ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৯ সালের দিকে বিশ্বখাদ্য সংস্থার আর্থিক সহায়তায় এলজিইডি বাঁশখালী উপজেলা কর্তৃপক্ষ ডানের ছড়ায় আরেকটি বাঁধ নির্মাণ করে। এখানে বাঁধ দেয়ার কারণে সুন্দর কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। বামের ছড়ার বাঁধের জলাশয় এলাকার পরিমাণ ২০ হেক্টর এবং ডানের ছড়া বাঁধের জলাশয় এলাকার পরিমাণ ৬০ হেক্টর। ২০০০ সালের দিকে বামের ছড়া এবং ডানের ছড়ার মধ্যবর্তী পাহাড় কেটে হ্রদ দু'টিকে এক করা হয়। এর পর থেকে বাঁশখালী ইকোপার্কের শ্রীবৃদ্ধিসাধন করা হয়। ২০০৬ সালের দিকে ইকোপার্কটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক এখন দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন স্পট। যাদের এখনো এই পর্যটন স্পট সম্পর্কে ধারণা নেই, তাদের একবারের জন্য হলেও পার্কটি দেখে আসা উচিত। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য রেস্ট হাউজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পিকনিক করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বামের ছড়া এবং ডানের ছড়া লেকে নৌ বিহারের জন্য রয়েছে সুসজ্জিত বোট। এখানে রয়েছে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। যেখান থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে অবস্থানরত দেশী-বিদেশী জাহাজের বহর এবং বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। এখানে লেকের উপর রয়েছে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু। সেতু দিয়ে পাহাড়ের একপাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়া যায়। লেকে অতিথি পাখির কলকাকীতে মুখরিত থাকে পরিবেশ। বন্যপশুপাখীর জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আগত পর্যটক এবং দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে কটেজ, রিফ্রেশমেন্ট কর্ণার, প্যানারোমিক ভিউ টাওয়ার, উন্নতমানের টয়লেট, সাসপেনশন ব্রিজ, ফুল, ফলের বাগানসহ আরো অনেক কিছু। বাঁশখালী ইকোপার্ক সম্পর্কে দেশের মানুষ এখনো পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে অবগত হতে পারেননি। তবুও এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এবং দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। বাঁশখালী ইকোপার্কটি এখনো পর্যন্ত পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যটক এবং দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। রেস্ট হাউসে রুমের সংখ্যা কম হওয়ায় স্থানাভাবে পর্যটকদের কষ্ট পেতে হয়। উন্নতমানের হোটেল রেস্তোরাঁর ব্যবস্থা নেই। চট্টগ্রাম শহর থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থাটাই আরামদায়ক নয়। বাঁশখালী সড়কের প্রশস্থতা কম। এই পর্যটন স্পট থেকে সরকারের প্রচুর রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণের লৰ্যে এই ইকো পার্ক নিয়ে প্রচারণা খুব কম। মন্তব্যগুলো (2)
![]() মন্তব্য লিখুন
|
|
| সর্বশেষ আপডেট ( Wednesday, 07 February 2007 ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|
মনোজকুমার দ. গিরিশ ১৪/০১/২০০৮ কোলকাতা