| দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান |
|
|
| লিখেছেন মাসুক আহমেদ (Mashuk Ahmed) | |||||||
| Sunday, 11 February 2007 | |||||||
পাতা 1 মোট 5 স্বপ্নের শুরু ![]() একটি পাড়া শীতের আবেশে ঘুমাতে ঘুমাতে আমরা একসময় কালুরঘাট ব্রিজে আমাদের আবিষ্কার করলাম। ঢুলু ঢুলু চোখে আমরা আবিস্কার করলাম ব্রিজের ছাদে আমাদের একটি সাইকেল আটকে গেছে, ফলশ্রুতিতে বাস আর সামনে আগাচ্ছে না। ওই শীতের রাতে তন্ময় চরম বিরক্তি দেখিয়ে বাসের ছাদে উঠে গেল এবং কাঁপতে কাঁপতে সাইকেল গুলো আবার ঠিক করে বেঁধে এলো। এছাড়া আমাদের আর কোন সমস্যা হয়নি। এবং একসময় আমরা আমাদের বান্দরবান শহরে আবিস্কার করলাম এবং এরসাথে আমরা আরো আবিষ্কার করলাম আমাদের সাইকেল গুলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট হারিয়েছে। যাইহোক আমরা বাস থেকে সাইকেল গুলো নামিয়ে সেখানেই ঠিকঠাক করে ফেল্লাম। এরপর চাঁদের গাড়ির খোঁজে বেড়িয়ে পড়লাম। বান্দরবান থেকে আমাদের যেতে হবে কৈক্ষংঝিরি, সেখান থেকে সাঙ্গু নদী পাড়ি দিয়ে আমরা পৌঁছাবো রুমা বাজার, এবং সেখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হবে কেওক্রাদং এর পথে। যেহেতু ঈদের পরদিন তাই অনেক অভিযাত্রি এসেছেন, কেউ যাবেন কেওক্রাদং, কেউ তাজিনডং, কেউ অন্যকোথাও। কিন্তু সবাইকেই যেহেতু যেতে হবে রুমাবাজার, তো আমরা সবাই মিলে একটা চাদের গাড়ি ঠিক করে ফেল্লাম। বান্দরবানের সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং দুঃসাহসিক গল্প শুনতে শুনতে পথচলাটা খুব একটা খারাপ হয়নি। তিনঘন্টা পর বেলা প্রায় ১১.০০ টার দিকে আমরা কৈক্ষংঝিরি এসে পৌঁছলাম। এখান থেকে আমাদের যেতে হবে রুমাবাজার। নৌকায় চড়ে অথবা পায়ে হেঁটে। নৌকার ঘাটে পৌঁছাতেই ওই এলাকার মাঝিরা নৌকার দাম তিন চারগুণ হাঁকতে থাকলো। কারণ আর কিছুই না আমাদের সাইকেলগুলো তাদের যতো মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাই হোক এরমধ্যে আমাদের সাইকেল আরোহিরা ঠিক করলো তারা সাইকেলে চড়েই যাবে। আর আমরা মানে ব্যাকআপ টিমের সদস্যরা নৌকায় করে যাওয়াই স্থির করলাম। নতুন একদল অভিযাত্রিদের সাথে আমরা ঝুলে পড়লাম নৌকায়। তারা সবাই ছিলেন সজ্জন প্রকৃতির চার্টাড আ্যকাউন্ট্যান্ট, সংখ্যায় চারজন (উচিমংদা, জীবনদা, হায়দার ভাই এবং হাজী ভাই) কাজ করছেন অক্সফাম নামক একটি এন.জি. ও তে। প্রথমবারের মতো এসেছেন বান্দরবান। সাঙ্গু নদীর উপর দিয়ে বয়ে চলতে থাকলাম আমরা। আর দেখলাম আধুনিকায়নের নামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কৃত্রিমতায় বেঁধে ফেলার চেষ্টা চলছে সর্বত্র। এভাবে একসময় আমরা পৌঁছে গেলাম রুমা বাজার। যেখান থেকে আমরা রওয়ানা হবো কেওক্রাদং এর পথে। বেলা বাজে তখন প্রায় ১.০০ টা, আমরা রুমাবাজারে পা রাখার ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় দেখা পেলাম আমাদের সাইকেল অভিযাত্রীদের। তারা সবাই কাদা বালুতে মাখামাখি, কিন্তু চোখগুলো কিছু করে ফেলার উত্তেজনায় চকচক করছে। "পথ কেমন" সালমানকে এই প্রশ্ন করতেই তার জবাব "চরম, এক্কেবারে ১০০% মজা"। "কখোনো আমি সাইকেলের ঘাড়ে, কখোনো সাইকেল আমার ঘাড়ে", তম্ময়ের জবাব। আর ইমরান ভাই আমাদের জানালেন এভাবেই অভিযান গুলো হয়, সবসময় সাইকেলে চড়তে হবে এমন কোন কথা নেই, আমাদের অভিযানের সাথে সবসময় সাইকেলগুলো থাকলেই সেটা সাইকেল অভিযান হিসেবে গণ্য করা যায়। এভাবে আড্ডার মধ্য দিয়ে হঠাৎ দেখি আমাদের দিকে একটি মোটর সাইকেল এগিয়ে আসছে। মোটর সাইকেলটা পরিচিত লাগতে না লাগতেই আমরা পরিচিত গলা পেয়ে চমকে উঠলাম! ! ! এযে মঞ্জু ভাই, আমরা সবাই হতবম্ব এবং তার রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি আমাদের জানালেন তিনি ঢাকা থেকে সারারাত মোটর সাইকেল চালিয়ে পৌছালেন রুমা বাজার শুধু আমাদের সহযাত্রী হওয়ার জন্য। বাহ্ একেবারে সোনায় সোহাগা, আমাদের সঙ্গে এখন একটি যান্ত্রিক সাইকেলও চলে এসেছে। আমরা মোটামোটি ভাবে সাইকেলগুলো মেরামত করে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য বগালেক। ঠিক হলো পুরো রাস্তা যেহেতু উঁচু নীচু তো আমরা সবাই যতটুকু সম্ভব সাইকেলে চড়বো আর বাকী রাস্তাটা হেঁটে হেঁটে চলবো এভাবে আমাদের একসাথে থাকাও হবে যেটা একটি অভিযানের পূর্ব শর্ত। ঠিক ৩.০০টার দিকে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করলাম। আমরা বগালেক যাওয়ার জন্য বেছে নিয়েছিলাম গাড়ি যাওয়ার রাস্তাটাকে। |
|||||||
| সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 08 March 2007 ) | |||||||
| < পূর্বে | পরে > |
|---|